All for Joomla The Word of Web Design

সত্যের পথে

সুমাইয়া বিনতে রাশিদ
অতিথি লেখিকা, মাই ইসলাম।

সকাল ৮টায় ঘড়ির এলার্মটা বেজে উঠলো। ধ্রুবর ঘুম ভাঙলো ইচ্ছের বিরুদ্ধে হলেও উঠতে হলো তাকে। ঘুম থেকে উঠেই মনে পড়লো কাল রাতে সে কি যেন একটা স্বপ্ন দেখেছে, কালো জামা পড়া একটা মেয়ে তাকে কি কি যেন বলছে, এখন কিছুই মনে পড়ছে না। বেশ কয়েকদিন ধরে এমন হচ্ছে। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল….
ফোনের ওপাশ থেকে নিলয় বলে উঠল,
“কিরে ভার্সিটি যাবি না?
“হুম, যাব। তুই কি আসবি বাইক নিয়ে?”
“হ্যা আমি ১০মিনিটের মধ্যেই চলে আসবো। রেডি হয়ে নে।”

ধ্রুবর মা পুজায় ব্যস্ত তাই ধ্রুব কিছু না বলেই বেরিয়ে গেল। ক্লাসে গিয়ে সব বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসে গেল ধ্রুব। হঠাৎ চোখ পড়ল জানালার পাশে বসে থাকা একটি বোরখা পড়া মেয়ের দিকে। ওকে চিনা চিনা লাগছে কেন? ধ্রুব নিলাকে জিজ্ঞেস করল, “ওই কালো র‍্যাবটা কে?
“জানিস না.ও আমাদের নতুন ক্লাসমেট আজই এলো।”
তখনি সুজন বলে উঠল, “তাকিয়ে লাভ নেই ও অনেক ধার্মিক। ছেলেদের সাথে কথা বলে না।” ধ্রুব কোন উত্তর দিলো না। অপলক দৃষ্টিতে কিচ্ছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো আর ভাবলো কেন বার বার ওকে পরিচিত মনে হচ্ছে। সেইদিন ধ্রুব আর ক্লাস করলো না, বাসায় এসে সারাদিন ও শুধু ভাবতে লাগলো কে এই মেয়ে? কেন আমি ওকে নিয়ে ভাবছি? ওকে আমি কোথায় দেখেছি? এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল ধ্রুব, হঠাৎ কে যেন বলে উঠল, “তুমি যে পথে আছো, সেই পথ ঠিক না। সঠিক পথে ফিরে এসো “। ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠল ধ্রুব আর বলতে আজ আবার সেই স্বপ্ন,ভ”কে এই মানুষ? এত অস্পষ্ট কেন এই স্বপ্নটা? কোন পথের কথা বললো? হাজারো প্রশ্নের মাঝে ডুবে গেলো সে।

৯টায় ধ্রুব ভার্সিটিতে যায়। আজ আর সে নিলয়ের অপেক্ষা করে না। এসেই সেই মেয়েটিকে দেখে , কিছুটা ভয় এবং সংশয় মনে নিয়ে মেয়েটির কাছে যায় তাকে জিজ্ঞেস করল,
“কি নাম তোমার?
মেয়েটি বলে উঠল,
“আসসালামু আলাইকুম। আমি নাম জান্নাত। ”
ধ্রুব অবাক হয়ে গেল, মেয়েটি উত্তর দিল কিন্তু একবার ও তাকালো না। এমনি চোখ ছাড়া কিছু দেখা যায় না তার উপর একবারও তাকায় নি। ধ্রুবর জিনিসটা খুব অপমানজনক মনে হলো। তখনি নিলয় এলো,
“এই ধ্রুব, ওখানে কি করছিস?
না, কিছুনা এমনি। এই বলে ধ্রুব চলে আসে।

ক্লাস শেষে আজ আড্ডা না দিয়ে ধ্রুব বের হয়ে যায়। রাস্তায় হাটতে হাটতে ভাবে কে এই মেয়ে? এত অহংকারী কেন? খুব সুন্দরি তাই? এসব ভাবতে ভাবতে সে মসজিদের সামনে এসে দাঁড়ায়, দেখে মানুষ কি সুন্দর করে সারিবদ্ধভাবে নামাজের জন্য যায়। তখনি ধ্রুবর চোখ পড়ল মসজিদে লাগানো একটি পোষ্টারের দিকে, সেখানে লিখা, “গুনাহ করতে করতে ক্লান্ত? কিন্তু আল্লাহর রহমত এখনো ক্লান্ত হয়নি “। ধ্রুব ভাবতে লাগলো রহমত আবার কি জিনিস?

তখন ধ্রুবর বড় ভাইয়ের কল এলো, ধ্রুব, আমি বাসায় এসেছি। এটা শুনে ধ্রুব খুশি হয়ে গেল তাড়াতাড়ি বাসায় দিকে রওনা হল। ভাইকে ধ্রুব খুব ভালোবাসে। ওর বড় ভাই অজয় ৫বছর পর  লন্ডন থেকে এসেছে।

বাসায় ফিরে ভাইকে দেখে ধ্রুব খুব খুশি। জমিয়ে আড্ডা দেয় দুই ভাই। গল্প করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে বলতে পারেনা। রাতে আবার ধ্রুব সেই একই স্বপ্ন দেখে। ধ্রুব ঘুম থেকে উঠে যায়। “উফ! আর পারবোনা,  রোজ রোজ একই স্বপ্ন!আবার মনে পড়ে জান্নাতের কথা। মেয়েটি কে? কত মায়া ছিল তার কন্ঠে। আজ আবার তার সাথে কথা বলবো। এই ভেবে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ক্লাসে যায় ।

আজও সে শুধু জান্নাতকে দেখতে পায়। এখনো কেউ আসেনি ভালোই হলো। ধ্রুব জান্নাতের কাছে গিয়ে তাকে বলল, “এই শোনো তুমি এমন প্যাকড হয়ে থাকো কেন!? এই কথা শুনেই জান্নাত ধ্রুবর দিকে তাকায়। আবার চোখ নিচে নামিয়ে বলে, এটাই আমার আল্লাহর হুকুম.। এই বলে জান্নাত ক্লাস থেকে চলে যায়। ধ্রুব ভাবতে লাগলো, এত মায়াবী চোখ! আগে কখনো দেখি নি! না জানি সে দেখতে কেমন?

রিক্সায় বসে ধ্রুব ভাবতে লাগলো জান্নাতের কথা, তখনি আযান দিলো।  ধ্রুব মনোযোগ দিয়ে আযান শুনলো। এতো মুধুর সুর!এতো ভালো তো গানেও লাগেনি। অপূর্ব ভাবে মুসলিমদের ডাকা হয় তাদের নামাজের জন্য বাহ! বেশ ভালো লাগলো । ওর মনে পড়লো ওর কলেজ বন্ধু হাসানের কথা। ছেলেটা বেশ ধার্মিক ছিল। কথায় কথায় কার জানি উক্তি দিতো। আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে আচ্ছা ওকেই কল দেই। হাসানকে কল দিলো ধ্রুব,
“আসসালামু আলাইকুম, কে?
সালাম, আমি ধ্রুব তোমার কলেজ ফ্রেন্ড। মনে আছে?
“ওহ, তুমি? হা হা হা সালাম না, ওয়া আলাইকুমুস সালাম বলতে হয়।”
আমি তো জানি না, আচ্ছা আমি কি তোমার সাথে দেখা করতে পারি?
হ্যাঁ, আমি বাসায় আছি, তুমি চলে এসো।

ধ্রুব রিক্সাওয়ালাকে বলল, মামা ওইদিকে নিয়ে যাও। মনে মনে কেমন জানি অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। হাসানের বাসায় গিয়ে ধ্রুব দেখে হাসান আগেই দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে,
হাসান: এই কি খবর তোমার। এতো দিন পর মনে পড়ল?
ধ্রুব : ভালো। না মানে সময় পাইনি তেমন। কেমন আছো?
হাসান: আলহামদুলিল্লাহ ভালো । তা কি মনে করে।
ধ্রুব: আলহামদুলিল্লাহ মানে কি?  “আলহামদুলিল্লাহ মানে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ।
“ওহ! আচ্ছা রহমত মানে কি?
বেশ খানিকটা অবাক হয়ে উত্তর দিল হাসান, আর্শিবাদ। blessing from Allah (s.w.t)। আল্লাহ সবসময় তার বান্দাদের রহমত দিয়ে ঘিরে রাখে।

ধ্রুব আবার বলে উঠল, আচ্ছা তুমি কার জানি উক্তি বলতে? মুহাম্মাদ নাম মনে হয়। উনি কে?
“হ্যাঁ, মুহাম্মদ সা.। উনি আমাদের শেষ নবী। যার উপর কুরআন নাযিল হয়। যিনি আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। অনেক কেঁদেছেন।

“ওহ! তার জীবনী নিয়ে বই আছে? আমাকে দিবা?
‘হুম আছে। অবশ্যই এখনি দিচ্ছি।”

ধ্রুব বাসায় নিয়ে এক এক করে সব কাহিনী পড়তে লাগলো। কখন যে ধ্রুবর চোখে অঝোরে অশ্রু ঝরতে লাগলো তার দিকে ধ্রুবর খেয়াল নেই। এত কষ্ট করেছেন? এত অত্যাচারিত হয়েছেন? এত নির্যাতন সহ্য করেছেন? হাজার অপমানিত হয়েও উনি কখনো রাগ করেননি। মানুষকে পাল্টা জবাব দেন নি। তার উম্মতের জন্য উনি এতো কেঁদেছেন? আজ অনেক আফসোস হচ্ছে ইশ! আমি যদি তার উম্মত হতাম। কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ে। আবার ও সেই স্বপ্ন “তুমি তোমার পথ পেয়েছ। এই পথই সৎ পথ।এবার তুমি এই পথে চলো। ”

লাফ দিয়ে ধ্রুব উঠে গেল, না আজ স্বপ্ন অস্পষ্ট না এই মেয়ে তো জান্নাত। আমি আমার পথ পেয়েছি এবার আমি ঐদিকেই যাব, আমার এখন মসজিদে যেতে হবে। ধ্রুব গিয়ে তার মাকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানায়, কিন্তু ওর মা রাজি হয়না। বলে,  এই ছেলে কি পাগল হয়ে গেছে?

ধ্রুবর মা আর ভাই কিছুইতে রাজি হচ্ছে না, কিন্তু ধ্রুব এবার তার সিদ্ধান্তে অটুট। কোন কিছুই তার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না আজ। ধ্রুব তাদের হাত ছেড়ে চলে যায় নতুন জীবনের খোঁজে। ধ্রুব মসজিদের দিকে রওনা হলো। অন্যদিকে ধ্রুবর মা নিলয়কে কল দিয়ে সব বলে।

ধ্রুব মসজিদে গিয়ে  শাহাদা  পাঠের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করে। ইমাম সাহেব ওকে নামাজের জন্য আসতে বললেন দুপুরে। ধ্রুব অনেক খুশি আজ, সে মুহাম্মাদ সা. উম্মত হয়েছে  আজ সে আল্লাহর বান্দা হয়েছে। খুশিতে যেন সে ভাষা হারিয়ে ফেলে। মসজিদ থেকে বের হতেই দেখে তার সামনে জান্নাত দাঁড়িয়ে আছে, ধ্রুব জান্নাতের কাছে গেল।
‘এই জান্নাত, আমি মুসলিম হয়েছি। আমি আজ অনেক খুশি।

জান্নাত বললো, “এই পথকে ধরে রাখবেন আজীবন। বিপথগামী যেন না হয়ে যান।”

ধ্রুব বললো, “তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। জান্নাত কথা শুনেও না শোনার ভান করে গেলো। তখনি নিলয় কল দিলো, “এই তুই নাকি মুসলিম হবি?! ধ্রুব বলল, হবো কি? আলহামদুলিল্লাহ (হাসানের কথা তার মনে পড়ল) আমি শাহাদা গ্রহণ করেছি। নিলয় নির্বাক কন্ঠে বলল, হঠাৎ কি এমন হলো? আমি খুশি। আলহামদুলিল্লাহ তবে কাহিনী কি এর?

ধ্রুব উত্তর না দিয়ে বলল, জান্নাত আমার কথা না শুনেই চলে গেলো।
নিলয় অবাক হয়ে গেল, “জান্নাত কে?”
ধ্রুব বলল, আরে নতুন ক্লাসমেট। ভুলে গেলি? বোরখা পরা। র‍্যাবের মতো।

“দূর পাগল, এই নামে কোন মেয়ে আমাদের ক্লাসে নেই। আর আমাদের ক্লাসে কোন মেয়ে বোরখা পরেনা।”
“আমি ওইদিন ওর সাথে কথা বলছিলাম, তুই আমাকে ডেকেছিলি মনে আছে?

“হুম, তুই একা একা কথা বলছিলি তাই ডেকেছিলাম। যা কি বলিস যে।  ধ্রুব কিছু না বলে কল কেটে দিলো।ধ্রুবর বুঝতে আর বাকি রইল না যে জান্নাত নামে কেউ নেই এটা শুধু কাল্পনিকচরিত্র। আল্লাহ এই স্বপ্নের মাধ্যমে তাকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন।

আজ ধ্রুব আর ধ্রুব নেই আজ সে আব্দুল্লাহ। আল্লাহর ওলি। নবির দিওয়ানা। আজ সে একজন বিখ্যাত হাফেজ। একটা মাদরাসা খুলে বাচ্চাদের কুরআন শিক্ষা দেয়। পরিবার, লাইফস্টাইল সব ছেড়ে আজ সে দ্বীনদার। মায়ের খবর নেয়, ইসলামের দাওয়াত দেয়, ওর কেউ রাজিয়,হয়না। ওর উদ্দেশ্য একটাই, জান্নাতে যেতে হবে, নবী সা. ও আল্লাহর দিদার লাভ করতে হবে। এতে যা যা করণীয় সে সবই করবে।
ওর একটি মেয়ে আছে, নাম “জান্নাত”..

জান্নাতের মাধ্যমে সে সত্যের পথ দেখেছে,তাই নিজের মেয়ের নামও জান্নাত রেখেছে।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

শিরোনাম:
  ❖   পরকালের জন্য হোক কিছু সঞ্চয়   ❖   কোনো এক ক্ষণে   ❖   ঠিকানার শেষ প্রান্তে   ❖   অন্যরকম বিয়ে   ❖   ভাগ্যকে আশীর্বাদ করুন দোষারোপ নয়   ❖   সত্যের পথে   ❖   কওমি সনদ, হাইআতুল উলইয়া, বেফাক ও অন্যান্যদের দলাদলি: একটি পর্যালোচনা   ❖   ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত যুদ্ধের পেছনে আমেরিকার খরচ ৫.৬ ট্রিলয়ন ডলার!   ❖   ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি পরকীয়া   ❖   আরবের দুম্বা সমাচার